حَيْضٌ হায়য বা ঋতূস্রাব বা নিফাস অবস্থায় কী কী করা হালাল?

প্রশ্নোত্তর শিক্ষা

حَيْضٌ (হায়য) শব্দের শাব্দিক অর্থ প্রবাহিত হওয়া। পরিভাষায় حَيْضٌ বলা হয় কোন মহিলা সাবালক হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তার জরায়ু থেকে যে রক্ত প্রবাহিত হয় তাকে।
-[১] আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের কোন স্ত্রীলোকের হায়য হলে তারা শুধু তাদের সাথে একত্রে খাওয়াই বন্ধ করে দিতো না, বরং তাদেরকে একত্রে ঘরেও রাখতো না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাঁকে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহ তা‘আলা তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ‘‘আর তারা আপনাকে হায়য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে……..’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ ২: ২২২) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের সাথে যৌনসঙ্গম ব্যতীত আর সব কিছু করতে পারো। এ সংবাদ ইয়াহূদীদের কাছে পৌঁছালে তারা বললো, এ ব্যক্তি আমাদের সব কিছুতেই বিরোধিতা না করে ছাড়তে চায় না।
অতঃপর উসায়দ ইবনু হুযায়র এবং ‘আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ) আসলেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ইয়াহূদীরা এসব কথা বলে বেড়ায়। আমরা কি আমাদের স্ত্রীদের সাথে যৌনসঙ্গম করার অনুমতি পেতে পারি? এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তাতে আমাদের ধারণা হলো, তিনি তাদের ওপর রাগ করেছেন। তারপর তারা বের হয়ে গেলেন। এমন সময় তাদের সামনেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু দুধ হাদিয়্যাহ্ আসলো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পেছনে পেছনে লোক পাঠিয়ে তাদেরকে ডেকে এনে দুধ খেতে দিলেন। এতে তারা বুঝলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে রাগ করেননি।
৫৪৫
মুসলিম ৩০২,
আবূ দাঊদ ২৫৮,
তিরমিযী ২৯৭৭,
ইবনু মাজাহ্ ৬৪৪
-[২] ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাপাক অবস্থায় আমি ও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র হতে গোসল করতাম। তিনি আমাকে হুকুম করতেন, আমি শক্ত করে লুঙ্গি বেঁধে দিতাম, আর তিনি আমার গায়ে গা লাগাতেন অথচ তখন আমি হায়য অবস্থায় ছিলাম। তিনি ই‘তিক্বাফ অবস্থায় তাঁর মাথা মাসজিদ থেকে বের করে দিতেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি দিয়ে তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম।
মি ৫৪৬
বুখারী ৩০১,
মুসলিম ২৯৩
-[৩] উক্ত রাবী [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়য অবস্থায় পানি পান করতাম। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা দিতাম। তিনি আমার মুখের জায়গায় মুখ রেখেই পানি পান করতেন। আমি কখনও হায়য অবস্থায় হাড়ের গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) খেতাম। অতঃপর আমি এ হাড় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতাম। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার মুখের জায়গায় মুখ রেখে তা খেতেন।
মি ৫৪৭
মুসলিম ৩০০,
ইবনু মাজাহ্ ৬৪৩,
আবূ দাঊদ ২৫৯,
-[৪] উক্ত রাবী [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়য অবস্থায় থাকতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতেন।
মি ৫৪৮
বুখারী ২৯৭,
মুসলিম ৩০১
-[৫] উক্ত রাবী [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, মাসজিদ হতে আমাকে চাটাই এনে দাও। আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার হায়য তো তোমার হাতে নয়।
মি ৫৪৯
মুসলিম ২৯৮,
আবূ দাঊদ ২৬১,
তিরমিযী ১৩৪
-[৬] মায়মূনাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাদরে সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন। যার একটি অংশ আমার শরীরের উপর থাকতো আর অন্য অংশ তাঁর শরীরের উপর থাকতো। অথচ তখন আমি ঋতুবতী।
মি ৫৫০
মুসলিম ৫১৪,
নাসায়ী ৭৬৮
-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করেছে অথবা কোন স্ত্রীলোকের মলদ্বার দিয়ে যৌনসঙ্গম করেছে অথবা কোন গণকের কাছে গিয়েছে, সে লোক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি অবিশ্বাস করেছে।
কিন্তু শেষের দু’জন ইবনু মাজাহ ও দারিমীর বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি গণকের কাছে গিয়েছে, সে যা বলেছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, সে কুফরী করেছে (অর্থাৎ- কাফির হয়ে গেছে)। তিরমিযী এ সানাদের সমালোচনা করে বলেছেনঃ হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে আবূ তামীমাহ্, তাঁর থেকে হাকীম আসরাম ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে বলে আমি জানি না (তবে আবূ তামীমার বিশ্বস্ততা সম্পর্কে কোন কোন মুহাদ্দিস সন্দেহ প্রকাশ করেছেন)।
মি ৫৫১
তিরমিযী ১৩৫,
ইবনু মাজাহ্ ৬৩৯
-[৯] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করে, তাহলে সে যেন অর্ধেক দীনার দান করে দেয়।
মি ৫৫৩
আবূ দাঊদ ২৬৬,
তিরমিযী ১৩৬,
ইবনু মাজাহ্ ৬৪০,
-[১১] যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তার সাথে কী কী করা (যৌনতৃপ্তি মেটানো) হালাল? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার পরনের পায়জামা শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর এর উপরের দিকে যা ইচ্ছা করবে।
মি ৫৫৫
মালিক ১২৬,
দারিমী ১০৩২

Share Now

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *