তুমি মুসলিম হওয়ার জন্য অনেক ছোট!!!

আলোচিত পোস্ট ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী

ভূমিকা

আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) তরফ থেকে আসা হেদায়েত বা পথপ্রদর্শনা আমাদের জীবনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার(আশীর্বাদ)। বেশিরভাগ সময়ে এটি আমাদের ভিতরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠে, ততক্ষনে আমরা অবস্য আমাদের বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছে যাই (যদি এতদিন বেঁচে থাকতে পারি)। এই সময়ে এসে আমরা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করি এবং আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) পথে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদরেকে শুধরে নেই।

তবে মজার ব্যাপার ঘটে যখন কোনো মধ্যবয়স্ক বেক্তি বা কোনো তরুণের মধ্যে হঠাৎ করে এই ব্যাপারটি দেখা দেয়। এর প্রভাব আমাদের মধ্যে আকস্মিক ভাবে ঘটে এবং তারা হঠাৎ করে ইসলামের নিয়ম নীতি মানা শুরু করে এবং তাদের জীবনধারায় বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। পরিবর্তনগুলি তাদের চারপাশের মানুষ (যেমন তাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ইত্যাদি) পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে। এটি এজন্যই ঘটে কারণ তারা তাদের ধর্মকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তাদের দায়িত্ব ও নিষেধাজ্ঞাগুলো যথাযত পালন করা শুরু করে; যা তাদের সমবয়স্ক মানুষরা এতটা গুরুত্ব দেয় না।

চারিপাশের মানুষ বলাবলি শুরু করে: “তুমি এখনো অনেক ছোট!! তোমার সামনে এখনো তোমার পুরো জীবন পরে আছে; তুমি যা করছো তা আসলে বৃদ্ধ বয়সীদের জন্য; এতো কম বয়সে চরমপন্থী হয়ো না…” ইত্যাদি। এবং দুঃখজনকভাবে কখনও কখনও এসব কথার কারণে সেই তরুণ/তরুণী আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তারা সম্পূর্ণ একা হয়ে যায় এবং তাদের অবস্থান ও কার্যকলাপ সমর্থন করার মতো মানুষও তারা খুঁজে পায় না।

যখন আমরা আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) কাছে আত্মসমর্পণ করি → আমরা আমাদের খোদা/প্রভুর নির্ধারিত নিয়ম-নীতি মানা শুরু করি।

মুসলিম’-আরবি শব্দটির প্রকৃত অর্থ = যে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) কাছে আত্মসমর্পণ করে।

সুতরাং, যখন কেউ বলে, “তুমি তোমার ধর্ম অনুসরণ করার জন্য এখনো ছোট”, তার আসল অর্থ দাঁড়ায়, “তুমি মুসলিম হওয়ার জন্য এখনো অনেক ছোট!!!”.

আসলে স্মার্ট ও শিক্ষিত তরুণ/তরুণী-রাই ধর্মবিশ্বাসী হয়, কারণ তারা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং শান্তির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে জানে ও বুঝে। আসুন, ব্যাপারটি একটু বিস্তারিত ভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি।

কুরআন থেকে আলোচনা করলে

এই বিষয়েটির একটি চমৎকার উদাহরণ ও সমাধান হিসেবে সূরা আল-মু’মিনূন-এর নিম্নবর্তীত আয়াতগুলোর কথা চিন্তা করা যায়:

যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলেঃ হে আমার পালণকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) প্রেরণ করুন। যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। অতঃপর যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন তাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে না। {সূরা আল-মু’মিনূন, আয়াত ৯৯-১০১}

এই আয়াতগুলোতে একজন ব্যক্তিকে চিত্রায়ন করা হয়েছে, যে তার মৃত্যুশয্যায় অবস্থানকালীন সময় তার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পারে এবং উপলব্ধি করে যে আসলেই তিনি তার সৃষ্টিকর্তা/মালিকের কাছে ফিরে যাচ্ছে। তখন ব্যক্তিটি তার পেছনে ফেলে আসা সময়ে বিপুল পরিমানের গোনাহ ও নাফরমানীর বোঝা দেখতে পেরে অনুশোচনা করা শুরু করে; কিন্তু ইস্তিগফার ও তওবাহ করে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) পথে ফিরে আসার কোনো সময় তার কাছে বাকি থাকে না।

সেই মুহূর্তে সেই বেক্তিটি বলেন: “হে আমার খোদা! আমাকে আরো একবার পৃথিবীতে পাঠাও (বা কিছু সময় দাও), যাতে আমি কিছু ভাল কাজ (বা সৎকাজ) করতে পারি, যা আমি আমার পিছনে ফেলে আসা সময়ে করতে পারিনি”।

তাকে উত্তর দেয়া হবে “কখনো নয়! এটা একটি নিছক কথার-কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।” এ সময় থেকে পুনরুত্থানের সময় পর্যন্ত তাদেরকে বারজাখে (একটি ভিন্ন মাত্রা/পর্যায়) থাকতে হবে।

যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন মানুষের মধ্যে কোন সম্পর্ক থাকবে না (পারিবারিক ও বন্ধুত্বের), কেউ সেদিন তাদের সাহায্যে আসবে না বা পরস্পরের কথা জিজ্ঞেসও করবে না। শুধু যাদের ভালো কাজের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সেদিন সফলকাম হবে।

পবিত্র কুরআনের গুহার অধিবাসীদের কাহিনী থেকে শিক্ষণীয়

গুহার অধিবাসীদের এই বিস্ময়কর ও অলৌকিক কাহিনীটি – সূরা কাহাফ এর আয়াত ৯ – ২৬ এ উল্লেখিত আছে। এই অধিবাসীদের মধ্যে কোনো বয়স্ক লোক ছিল না। এই অতিসাধারণ যুবকদল কোনো নবী, রসূল বা পণ্ডিত ছিলেন না, তারা শুধুই বিশ্বাসী ছিল। ঘটনাটির সময়ে সেখানে কোন নবী-রসূল ছিল না (অনেকটা আমাদের মতোই সময় ছিল)। সেই সময়ে শুধুমাত্র তারাই ইসলাম ধর্ম অবলম্বন করতে চেয়েছিলো, যখন বাকি সবাই অন্যান্য ধর্ম অনুসরণ করতো বা শিরকে লিপ্ত ছিল। তারা তাদের বিশ্বাসে অটল থাকায়, তাদের বিরুদ্ধে পুরো সমাজ আক্রমণ করতে চেয়েছিলো। তারা সেখান থেকে পালতে সক্ষম হয়েছিল এবং একটি গুহাতে আশ্রয় নিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পরেছিল। আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) তাদেরকে সেই ঘুমন্ত অবস্থায় ৩০৯ বছর বাঁচিয়ে রাখেন এবং অনেক উপায়ে তাদেরকে সাহায্য করেন, যেমন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময়, সূর্যের আলো তাদের জন্য বেঁকিয়ে পৌঁছানো হতো। এমনকি, তাদেরকে ঘুমের মধ্যে এপাশ-ওপাশ করা হতো। ব্যাপারটা এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলো যে – যখন এই যুবকগুলো আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) নিকট নিজেদকে আত্মসমর্পণ করেছিল তখন গোটা বিশ্ব (প্রকৃতিক আইন) যেন তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। উপরোন্ত, তাদের কাহিনী কেয়ামতের দিন পর্যন্ত কুরআনে সংরক্ষিত হয়েছে এবং আমরা সহ সর্বকালের পণ্ডিতরা তাদের কাহিনী নিয়ে গবেষণা করে চলেছে।

হাদীস থেকে আলোচনা করলে

বিচার দিবসের ৫টি প্রশ্ন

আমাদেরকে অবশই পুরুত্থিত করা হবে এবং কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে:

আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন (বিচারের জন্য) কেয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে {সূরা আন-নিসা, আয়াত ৮৭}

এই বিখ্যাত হাদীসটি উল্ল্যেখ করেছে, কেয়ামতের দিনে আমরা ৫ টি প্রশ্নের সম্মুখীন হবো:

ইবনু মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগপর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ্ তা’আলার নিকট হতে সরতে পারবে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কি কাজে তা বিনাশ করেছে; তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং তা কি কি খাতে খরচ করেছে এবং সে যত টুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে মুতাবিক কি কি আমল করেছে।

{সহি আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৪১৬}

পাঁচটি প্রশ্ন হলো:

    1. কীভাবে একজন পৃথিবীতে তার জীবন অতিবাহিত করেছেন?
    2. কিভাবে সে তার যৌবনকাল কাজে লাগিয়েছে?
    3. কীভাবে সে তার সম্পদ উপার্জন করেছে?
    4. কীভাবে সে তার ধন-সম্পদ ব্যয় করেছে?; এবং
    5. তার অর্জিত জ্ঞান-এর মোতাবেক সে কতটুকু আমলে নিয়েছে?

সুতরাং, সহজেই বোঝা যায়, যারা এ প্রশ্নগুলোর উত্তর সহজে দিতে পারবে তাদের জন্য বেহেস্তে পৌঁছনো সহজ হবে। আসুন, এই প্রথম ২টি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করি:

কীভাবে একজন পৃথিবীতে তার জীবন অতিবাহিত করেছেন?

এই প্রশ্নটির পরিধিতে মানুষটির পেছনে ফেলে আসা ভাল ও মন্দ কাজ অন্তর্ভুক্ত। এটি তার পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কেন্দ্রীয় ধারণা এবং উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট।

পবিত্র কুরআনে অবশ্য আমাদের সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে উল্লেখিত আছে, যা হলো এক আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) এবাদত করা। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো: ইবাদত শুধু প্রার্থনা, যিকর, রোযা, হজ্জ্ব এবং যাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সকল অনুমোদিত সৎ কর্মই এবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। {সূরা আয-যারিয়াত: আয়াত ৫৬}

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের সঠিক পথে জীবন পরিচালনা করার একটি জিবন্ত উদাহরণ ছিলেন। আমাদের জীবন যাপনে, আমাদের নবী-এর সুন্নত এবং জীবনী-এর দিকেও খেয়াল রাখতে হবে, তার তাৎপর্য অগ্রাহ্য করা যাবে না।  

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক হও; (কিন্তু) যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখ, স্পষ্ট প্রচারই আমার রসূলের কর্তব্য।

{সূরা আল-মায়েদার আয়াত ৯২}

কিভাবে একজন তার যৌবনকাল কাজে লাগিয়েছে?

সহজেই বোঝা যায় যে আমাদের যৌবন কালের বয়সের উপরে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একজনের জবাবদিহিতার ব্যাপারে এই সময়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এইখানেই সেটি বুঝা যাচ্ছে। সুতরাং, মানুষের এই সময়টির সর্বাধিক সদব্যবহার করা উচিত। একটি সমাজ উজ্জ্বলতম হয়ে উঠে যখন যুব সম্প্রদয় ইসলাম দ্বারা আলোকিত হয়।

৭ শ্রণীর মানুষ কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ার নিচে আশ্রয় পাবে

আমরা সবাই সম্ভবত এই বিখ্যাত হাদীসটি জানি, যে ৭ শ্রণীর মানুষ কেয়ামতের দিন আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) ছায়ার নিচে আশ্রয় পাবে। এদের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী হলো ধার্মিক যুবক/যুবতী।

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সাত রকমের লোক, যাদেরকে আল্লাহ্‌  ক্বিয়ামাতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া হবে না:

১. ন্যায়পরায়ণ নেতা;

২. ঐ যুবক, যে আল্লাহ্‌ তা’আলার ‘ইবাদাতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে;

৩. এমন যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌কে নির্জনে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টি অশ্রুসিক্ত হয়;

৪. এমন ব্যক্তি যার অন্তর মাসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে(জামা’আতে সলাত আদায়ে যত্নবান);

৫. এমন দু’ব্যক্তি যারা আল্লাহ্‌র উদ্দেশে একে অপরকে ভালবাসে;

৬. এমন ব্যক্তি যাকে কোন সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকলে সে বলে, আমি আল্লাহ্‌কে ভয় করি;

৭.যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী করে তা তার বাম হাত টের পায়না

{সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৮০৬ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২৭০}

এমনকি, এই হাদীসটি দেখলেও বোঝা যায়, যৌবনকালের ইবাদতকে কিভাবে এই দ্বিতীয় শ্রেণীতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এমন সময় এই ছায়া দেয়া হবে, যখন সূর্য আমাদের সবচাইতে কাছে নিয়ে আসা হবে। সেইদিন সবাই আল্লাহ (আজ্জা-ওয়া-জাল) এর ছায়া পেতে চাবে।

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের দিন সূর্যকে মানুষের সন্নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবনু ‘আমির (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, আরবি শব্দ (১ মাইল) দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, জমির দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের ‘আমল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন।  {সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৭০৯৮}

যুক্তি উপস্থাপনা

যখন আমরা অনেক ছোট ছিলাম:

সাধারণত, মানুষের মন এই সময়ে নিরীহ প্রকৃতিরই থাকে। আমাদের বেশিরভাগ কার্যকলাপ আমাদের পিতা-মাতা ও গুরুজন এর তত্ত্বাবধানে ও নিয়ন্ত্রণে থাকে (পরিবার, শিক্ষক ইত্যাদি দ্বারা) তাই আমরা খারাপ কাজ থেকে এমনিতেই দূরে থাকি।

যখন আমরা বৃদ্ধ হয়ে যাই:

আমরা একা-একাই ধর্মীয় পথ অবলম্বন করা শুরু করি। এতদিনে আমরা বুঝে যাই যে, যাই হোক না কেন, আমাদের সময় আসলেই শেষ হয়ে আসছে। উপরন্ত, তখন আমাদের কাছে প্রচুর অবসর সময়ও থাকে (রোজগার এবং পারিবারিক কার্যক্রম থেকে অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পর)। উল্লেখ্য যে, রোজগার ও পারিবারিক কাজে যতটা পরিশ্রম প্রয়োজন হয় এবাদত করার ক্ষেত্রে ততটা দরকার হয় না; আর আমাদের বুড়ো বয়সে আমাদের মধ্যে শুধুমাত্র এবাদত করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিটুকুই অবশিষ্ট থাকে, সম্ভবত এটি আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) একটি রহমত। তাই এই সময়টিতে প্রায় সবাই খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকে।

কিন্তু আমরা যখন যুবক/যুবতী:

এটাই সেই সময় যখন, বেশিরভাগ মানুষ – তাদের জীবনের প্রলোভনে মক্ত থাকে এবং অধিকাংশ সময় ধর্মীয় পথ থেকে সবচাইতে দূরবর্তী থাকে। জীবনের অধিকাংশ পার্থিব আকর্ষণসমূহ এই বয়সী যুবক বা যুবতীরদের উদ্দেশ্য করেই তৈরী হয় যেমন মিউজিক, গেমস, ক্লাব, ফ্যাশন ইত্যাদি, যেগুলো তাদের ধার্মিক পরিধি থেকে বহু দূরে সরিয়ে রাখে।

এই সময়টিতেই, শয়তানের প্রভাব ও প্ররোচনাও মানুষের মধ্যে সবচাইতে বেশী মাত্রায় থাকে। কিন্তু সঠিক শিক্ষা লাভ ও জ্ঞান সঞ্চার করার জন্য এটি সবচাইতে উত্তম সময় হয় কারণ এসময় আমাদের উপযুক্ত শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা থাকে সঠিক যুক্তিবিচার করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত ২টি হাদিস দিয়ে শেষ করি:

প্রথমটি হলো, আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলার) দুইটি আশীর্বাদ হারিয়ে ফেলি:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এমন দু’টি নিয়ামত আছে, যে দু’টোতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর

{সহীহ আল-বুখারী, হাদীস ৬৪১২}

দ্বিতীয়টি, আল-হাকিমের “মুসতাদারাক”-এ উল্লেখিত, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন:

আমাদের ৫টি বিষয়ে আগে থেকেই সুবিধা নিয়ে নেয়া উচিত:

১।  বুড়ো হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের যৌবনের;

২। অসুস্থ হওয়ার আগেই আমাদের সু-সাস্থের;

৩। দারিদ্র আসার আগেই আমাদের ধন-সম্পত্তির;

৪। ব্যস্ত হয়ে পরার আগে আপনার অবসর সময়ের; এবং

৫। মৃত্যুর পূর্বে আপনার জীবনের

Share Now

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *