রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিশুদ্ধ সালাতের সংক্ষিপ্ত নিয়ম

শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিশুদ্ধ সালাতের সংক্ষিপ্ত নিয়ম .

  • বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর। সালাম ও দুরুদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি। সালাম বর্ষিত হোক অগণিত সাহাবীদের প্রতি ।

সহিহ হাদিস ভিত্তিক বিশুদ্ধ সালাতের সংক্ষিপ্ত নিয়ম বর্ণনার চেষ্টা করছি ইনশা আল্লাহ।

সালাতের পদ্ধতিগত দিক থেকে নারী ও পুরুষের কোনই পার্থক্য নাই। সমাজে প্রচলিত কিতাবে যে সকল পার্থক্য লিখিত আছে সেগুলোর মধ্যে আছে অনেক দুর্বল হাদিস, বানোয়াট জাল হাদিস আবার অনেক কিতাবের লেখকদের নিজোস্ব বানোয়াট কথা বার্তা ।

সমাজে প্রচলিত মাসআলার অনেক হাদিস হাদিস বিশারদগনের দ্বারা , হাদিসের উপর যারা পান্ডিত্ব অর্জন করেছেন , যারা হাদিস গবেষণা করে যাচাই বাছাই করেছেন তাঁদের দ্বারা হয় ”দুর্বল” নতুবা ”অগ্রহণ যোগ্য” বলে সাব্যস্ত হয়েছে । দুর্বল হাদিস আমলের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় । যেখানে বিশুদ্ধ হাদিস বিদ্যমান সেখানে দুর্বল হাদিস দিয়ে সহিহ বিশুদ্ধ হাদিসকে অবজ্ঞা করা নিতান্তই মুর্খতা ব্যতীত কিছুই নয় । আমাদের অজ্ঞতা ও জ্ঞানের স্বল্পতার দরুন যেগুলো সম্পর্কে আমরা সাধারণত অজ্ঞ । আমাদের অজ্ঞতার কারণে বিদাতিরা আমাদের উপর জাল জিফ বানোয়াট হাদিস উপস্থাপন করে আমাদেরকে মিথ্যা বিষয় চাপিয়ে দিতে পারে। কিন্তু যারা সচেতন তাদেরকে কখনই বিদাতিরা ধোঁকা দিতে পারে না ।

পবিত্রতা অর্জন সালাতের পূর্ব শর্ত ।এইবার সংক্ষেপে সালাতের নিয়ম বর্ণনা করার চেষ্টা করছি ইনশা আল্লাহ ।

১] নিয়ত অন্তরে করতে হবে। (বুখারী) অর্থাত সালাত পড়ব মনে মনে এটা স্থির করার নামই নিয়ত। নিয়ত উচ্চারণ করে পড়া বিদাত। বিদাত করলে নামাজ বাতিল হবে । (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)

২]  স্থির, সোজা ও স্বাভাবিক ভাবে দাড়াতে হবে। অহেতুক নড়াচড়া করলে সালাতের গুন কমে যাবে এমন কি বাতিলও হতে পারে । (সুরা বাক্বারাহ ১৩৮, বুখারী মুসলিম)দাড়ানোর সময় দুই পায়ের মাঝে মাত্রাতিরিক্ত ফাঁকা রাখা অথবা মাত্র চার আঙ্গুল ফাকা রাখা এগুলো বাড়াবাড়ি । স্বাভাবিক ভাবে ব্যক্তির উচ্চতা অনুযারী যতটুকু ফাকা রেখে দাড়ানো দরকার ততটুকুই ফাকা রেখে দাড়াবে।জামায়াতে সালাতে মুকতাদী পরস্পর পায়ে পা ও কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে দাড়াবেন এটাই সুন্নত। ( বুখারী, আবু দাউদ, হাকেম )পায়ে পা কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে না দাড়ালে শয়তানকে আশ্রয় ও সুযোগ দেয়া হলো, সুন্নত কে অবজ্ঞা করা হলো । এর জন্য কঠিন জবাব দিতে হবে ঈমাম কে কারণ ইমামের দায়িত্ব কাতারের মাঝের ফাঁকা বন্ধ করা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাতারে দুই ব্যক্তির মধ্যবর্তী ফাঁকা বন্ধ করার আদেশ দিতেন ।( বুখারী) সালাতে সর্বদা ( তাশাহুদ ব্যতীত) সিজদার স্থানের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে । (বুখারী) ৩]আল্লাহু আকবার বলে সালাত শুরু করতে হবে । আল্লাহু আকবার বলার সময় দুই

হাত কাঁধ বরাবর বা কখনো কানের লতি পর্যন্ত উঠাতে হবে। (মুসলিম, বুখারী, আবু দাউদ, নাসাই, তিরমিজি, ইবনে খুযায়মা)

কান বা কানের লতি স্পর্শ করা বা কানের লতির উপরে হাত উঠানো বাড়াবাড়ি বিশুদ্ধ হাদিস বহির্ভূত। এগুলো বিদাতের আশংকা তৈরী করে। এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি নামাজ বাতিল করে দিতে পারে। (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)

৪] বুকের উপর হাত বাঁধতে হবে। এটাই সবচেয়ে বিশুদ্ধ( বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে খুযায়মা)বুকের নিচে কিন্তু পেটের ওপর ( নাভির উপরে) হাত বাধা যেতে পারে। (মুসলিম)নাভির নিচের হাত বাধা সকল হাদিস বিশেষজ্ঞদের নিকট ”দুর্বল” হাদিস। (আবু দাউদ) দুর্বল হাদিসের উপর আমল করা যায় না, অন্তত যেখানে বিশুদ্ধ হাদিস বিদ্যমান। যারা বিশুদ্ধ হাদিসের বিপরীতে দুর্বল হাদিস নিয়ে তর্ক করে তাদের থেকে সতর্ক হওয়া জরুরি। ৫]  তারপর পড়তে হবে সানা – বুখারী মুসলিম এর সানা সবচেয়ে বিশুদ্ধ; এটা পড়াই বেশি উত্তম :-”আল্লাহুম্মা বা-ঈদ বাইনী ওয়া বাইনা খাতাইয়া ইয়া কামা বা আদ’তা বাইনাল মাশরিক্বী ওয়াল মাগরিব। আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিনাল খাতাইয়া কামা উনাক্কাস ছাওবুল আব্‌ইয়াদু মিনাদ দানাস। আল্লাহুম্মাগসিল খাতাইয়া ইয়া বিল মা-য়ি ওয়াসছালজি ওয়াল বারাদ্‌।” বুখারী ও মুসলিম|

সানার জন্য ২য় দুআ: উচ্চারণঃ ”সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাস্‌মুকা ওয়া তা’আলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা” আবূ দাঊদ ৭৭৫, ৭৭৬ ইঃফাঃ যদিও এই সানাকে কেউ কেউ দুর্বল বলেছেন।

তারপর,আউযুবিল্লাহহি মিনাস শায়তানির রাজিম। ( ফিকহুস সুন্নাহ, নায়ল)বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ( তাফসির ইবনে কাসীর)৬]  তারপর সুরা ফাতেহা পাঠ করতে হবে । ইমাম হোক মুকতাদী হোক সকলকেই

সুরা ফাতেহা পড়তেই হবে। ( বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাই, ইবনু মাজাহ)

জামায়তে সালাতের ক্ষেত্রে ইমাম যখন স্বরবে সুরা ফাতেহা পরেন তখন মনে মনে শব্দ ছাড়া সুরা ফাতেহা পড়ে নিতে হবে । সুরা ফাতেহা আলাদা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ । ইমামের কেরাত মুক্তাদির জন্য যথেষ্ঠ ইটা সুরা ফাতেহার পরে অন্য সুরা বা কেরাতের জন্য প্রযোজ্য। যদিও কেউ কেউ বলেন ইমামের স্বরবে সুরা ফাতেহা পাঠ মুকতাদী শুনতে পেলে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। (আলবানী) যদিও বিশুদ্ধ হাদিস তখন ”চুপে চুপে মনে মনে পড়ে নিতে হবে” অতএব চুপে চুপে মনে মনে পড়ে নেওয়াটাই বিশুদ্ধ ও বুদ্ধিমানের কাজ।

আর ইমামের পিছনে নিরবের সালাতে অবশ্যই অবশ্যই সুরা ফাতেহা পড়তেই হবে।

বুখারী, জুয্উল ক্বিরাআত; ত্বাবারাণী আওসাত্ব, বায়হাক্বী, ছহীহ ইবনু হিববান হা/১৮৪৪; হাদীছ ছহীহ- আরনাঊত্ব; তুহফাতুল আহওয়াযী, ‘ইমামের পিছনে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-২২৯, হা/৩১০-এর ভাষ্য (فالطريقان محفوظان) , ২/২২৮ পৃঃ; নায়লুল আওত্বার ২/৬৭ পৃঃ, ‘মুক্তাদীর ক্বিরাআত ও চুপ থাকা’ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/৭৭৬, আবুদাউদ হা/৮২১, মিশকাত হা/৮২৩ ‘সালাতে কিরায়াত’ অনুচ্ছেদ-১২|৭] সুরা ফাতেহা শেষে স্ব শব্দের সালাতে উচ্চ স্বরে ”আমিন” বলতে হবে। (বুখারী)অনুচ্চ স্বরে ”আমিন” বলার হাদিস দুর্বল ।আর চুপে চুপে মনে মনে বলার কোনো হাদীসই নাই ।আমিন জোরে বললে ইহুদিদের অন্তর্জ্বালা হয় । ( তিরমিজি) অতএব আমিন জোরে বললে যে সকল মুসলিমের গা জ্বলে বুঝতে হবে তাদের মধ্যে ইহুদিদের মনোভাব বিদ্যমান । ( শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ)  ৮] সুরা ফাতেহা শেষ হলে অন্য সুরা বা আয়াতাংশ পড়তে হবে (বুখারী, আবু দাউদ, আহমাদ)৯]রুকুতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় রফল ইয়াদায়ন করতে হবে ,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রফল ইয়াদায়ন করেছেন। রফল ইয়াদাইন এর পক্ষে বুখারিতে ৫ টি, মুসলিমে ৬ টি, নাসাইতে ৫ টি, তিরর্মিজিতে ২ টি, আবু দাউদে ৪ টি, ইবনু খুজায়্মাতে ৯ টি হাদিস বিদ্যমান| ইমাম বুখারী (রহঃ) শুধু রফল ইয়াদাইন এর গুরুত্ত্ব অনুধাবনে সতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন| তারপরও মানুষ এটাকে পরিহার করে কিভাবে? এটা অনেক বড় একটি সুন্নাত| রফল ইয়াদায়ন না করার পক্ষেও কিছু দলিল বিদ্যমান ।যেহেতু করার পক্ষে স্পষ্ট ও শক্তি শালী দলিল রয়েছে তাই রফল ইয়াদায়ন করাই উত্তম। এখানের বিষয়টি হচ্ছে উত্তম ও অনুত্তমের বিষয় ।রফল ইয়াদায়ন করলে এর সওয়াব পাওয়া যাবে। না করলে এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন । রফল ইয়াদায়ন না করলে এর সওয়াব পাবেন না ।অতএব অহেতুক গোয়ার্তুমি করে রফল ইয়াদায়ন না করে এই সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনই অর্থ থাকতে পারে না ।১০] সামনে ঝুকে পিঠ সমান্তরাল রাখতে হবে| সালাতে সর্বদা সিজদার দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে (তাশাহুদ ব্যতীত) | বুখারী |রুকুতে মাথা ও পিঠ একদম সমান্তরাল রাখতে হবে । পিঠ সোজা না রাখলে সালাত হবে না । (বুখারী , মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

১১]রুকুর জিকির বা দুআ: ফরজ সুন্নত নফল সকল সালাতেই এই সকল দুআ পড়া যায়:-

১ম দুআ : তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’; অথবা তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম ওয়া বিহামদিহি ‘; (আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত, দারু কুতনি , তাবরানী)

২য় দুআ: ”সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম মাগফিরলি|” রাসুল (সাঃ) এই দুআ রুকু সিজদায় বার বার বেশি বেশি করে পাঠ করতেন (বুখারী, মুসলিম, নাসাই, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ) ৩য় দুআ: তিনবার ‘সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতিহ ওয়ার- রূহ’। ( মুসলিম, মিশকাত হাদিস ৮৭২ পৃঃ ৮২)

রুকুতে কুরআন পড়া নিষেধ | (মুসলিম)

১২] রুকু থেকে উঠতে রফল ইয়াদায়ন করতে হবে এবং একই সাথে একসাথে বলতে হবে,

সামি আল্লাহু লিমান হামিদা” অর্থ আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা কবুল করেন, যে তার প্রশংসা করে| (বুখারী ও মুসলিম)

এর পর সোজা দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় মনে মনে পড়তে হবে,‘ আল্লাহুম্মা ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত) ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সময়, ইমাম যখন ”সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা” বলবে তখন মুক্তাদিরা বলবে ‘ আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ|’ ( বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি)১৩] রফল ইয়াদায়ন করে

”আল্লাহু আকবার” বলে সিজদায় যেতে হবে । ( বুখারী মুসলিম)

সিজদায় যাওয়ার সময় আগে হাত তারপর হাটু রাখতে হবে এবং এটাই বেশি শক্তিশালী ও শুদ্ধ। (ইবনু খুযায়মা, দারা কুতনি, হাকেম একে সহিহ বলেছেন; ইমাম মালেক, আহমদ এর মতও এটিই; আবু দাউদ )

সিজদায় যাওয়ার সময় আগে মাটিতে হাটু রাখা ও পরে হাত রাখা যায়| এটার পক্ষেও দলিল রয়েছে| (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাই, ইবনু মাজাহ)

প্রথমটি একটি বেশি শক্তিশালী এই জন্য যে, রাসুল (সাঃ) আদেশ করেছেন যে, ”তোমাদের কেউ সিজদাহ করলে দুই পায়ে সে উটের মত না বসে বরং হাটু রাখার আগে যেন দুই হাত মাটিতে রাখে”| (আবু দাউদ)

১৪]  মাটিতে হাত, হাটু,    পায়ের আঙ্গুল, কপাল ও নাক ঠেকিয়ে সিজদাহ করতে হয়| সিজদায় অবশ্যই কপাল ও নাক দুটোই মাটিতে স্পর্শ করতেই হবে| সেই ব্যক্তির সালাত হয় না যার নাক ও কপাল মাটি স্পর্শ করে না| (দারু কুতনি, তাবরানী)

সিজদায় পায়ের গোড়ালি উর্ধ্বমুখী থাকবে, পায়ের আঙ্গুল মাটিতে লাগানো থাকবে, উরু থেকে পেট আলাদা থাকবে | (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাই)

সিজদার সময় দুই হাতের তালু কাধ বরাবর বা কান বরাবর রাখতে হবে | (আবু দাউদ, তিরমিজি)

আমাদের সমাজে প্রচলিত পদ্ধতিতে মহিলারা শরীর লেপ্টিয়ে বিছিয়ে দেন জমিনে, দুই হাত মিলিয়ে দেন জমিনে যা স্পষ্ট হাদিস বিরোধী এবং তা পরিতাজ্য|

রাসুল (সাঃ) দুই হাত মাটিতে বিছিয়ে দিতেন না| বরং তা জমিন থেকে উপরে (বুখারী, আবু দাউদ) এবং পেটের দুই পাশ থেকে দুরে রাখতেন| (বুখারী, মুসলিম)

হাটু, পেট, হাত, মাথা এই অঙ্গগুলোর মাঝখানে এমন ফাকা থাকতে হয় যেন এই ফাকা দিয়ে একটি বকরীর বাচ্চা চলে যেতে পারে| (সহিহ মুসলিম)

বিশেষ করে নারীদের জন্য, ‘তোমরা হিংস্র প্রাণীর মত হাত বিছিয়ে দিও না, দুই হাতের তালুর উপর ভর রাখো এবং দুই বাহুকে আলাদা রাখো| এভাবে করলে তোমার সকল অঙ্গ সিজদাহ করবে”| (ইবনে খুযায়মা)

নারীদেরকে আমাদের সমাজে হাত পেট লেপ্টে সিজদা করতে শিখানো হয় যা সহিহ হাদিসের বিরোধী । এ সংক্রান যে হাদিস তারা পেশ করে তা হাদিসের বিশেষজ্ঞগনের কাছে অগ্রহন যোগ্য এবং একই সাথে সহিহ হাদিসের সাথে সংঘাতপূর্ণ।১৫]  সিজদায় পিঠ অবশ্যই সোজা রাখতে হবে । পিঠ সোজা না রাখলে সালাত নষ্ট বাতিল হয়ে যাবে । ( ইবনু মাজাহ, আবু দাউদ)১৬] সিজদার জিকির বা দুআ:

ফরজ সুন্নত নফল সকল সালাতেই এই সকল দুআ পড়া যায়:-

১ম দুআ : তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’; (নাসাই, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত, দারু কুতনি) ২য় দুআ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম মাগফিরলি| রাসুল (সাঃ) এই দুআ রুকু সিজদায় বার বার বেশি বেশি করে পাঠ করতেন (বুখারী, মুসলিম, নাসাই, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ) ৩য় দুআ: তিনবার ‘সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতিহ ওয়ার- রূহ’ | ( মুসলিম, মিশকাত হাদিস ৮৭২ পৃঃ ৮২)

সিজদায় কুরআন পড়া নিষেধ | (মুসলিম)সিজদায় বেশি বেশি দুআ করা | ‘বান্দা সিজদাহ অবস্থায় আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী হয়; তোমরা সিজদায় বেশি বেশি করে দুআ কর’ (মুসলিম)এখানে একটু লক্ষনীয় যে সিজদায় নিজের ভাষায় বেশি বেশি দুআ করা যাবে কিনা? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে| কেউ বলছেন যেকোনো ভাষায় দুআ করা যাবে আবার কেউ বলছেন করা যাবে না, এমন কি আরবিতেও নিজের ভাষায় দুআ করা যাবে না| কারণ সালাতে নিজের ভাষা/ কথা চলেনা | আমরা মনে করি, সালাতে রাসুল (সাঃ) যে দুআগুলো শিখিয়েছেন সে গুলি বেশি বেশি পড়া ভালো!

১৭। ১ম সিজদা দেয়ার পর ”আল্লাহু আকবার” বলে সিজদাহ থেকে উঠে পিঠ সোজা করে বসতে হবে এবং দুআ পড়তে হবে, ”আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনী, ওয়াহদীনি, ওয়া আফিনী, ওয়ার-ঝুকনী” (মুসলিম, মিশকাত পৃঃ ৭৭ হা/ ৮৯৩)হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) দুই সিজদার মাঝে বলতেন, ‘রাব্বিগ ফিরলি” অর্থ: হে প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন| (নাসাই, মিশকাত পৃঃ ৮৪); ইবনু মাজাতে ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি’ দুইবার পড়ার কথা বলা আছে|

দুই সিজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসতে হবে ও উপরের দুআ পড়তে হবে । ইবনু মাজাহ হা/৮৯৭; আবুদাঊদ হা/৮৫০, তিরমিযী হা/২৮৪; নাসাঈ হা/১১৪৫, মিশকাত হা/৯০০, ৯০১ ‘সিজদা ও উহার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-১৪।

একই নিয়মে দ্বিতীয় সিজদাহ করতে হবে ।

১৮। ১ম রাকাতের দুই সিজদাহ শেষ করে আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাড়াতে হবে। এবং ”সুরা ফাতেহা” থেকে শুরু করে একইরূপে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করতে হবে। ১৯] দ্বিতীয় রাকাতে সিজদা শেষ করে ২ রাকাত বিশিষ্ট সালাতে শেষ বৈঠকে বসতে হয় । তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতে এটি মধ্যবর্তী বৈঠক ।

তিন বা চার রাকাত বিশিষ্টি সালাতে এই বৈঠকে শুধুমাত্র ”আত্তাহিয়াতু” পড়তে হয়। কিন্তু দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাতে এবং অন্যান্য সালাতের শেষ বৈঠকে ”অত্তাহিয়াতু পড়তে হয় তারপর দুরুদ পড়তে হয় এবং সর্বশেষ দুআ মাসুরা পাঠ করতে হয়’।

( বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, মিশকাত)

এ সময় ডান হাত আরবি ৫৩ -এর ন্যায় মুষ্টিবদ্ধ থাকবে ও শাহাদাত অঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করবে অর্থাত নাড়তে থাকতে হবে ধীরে ধীরে । মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাই, ইবনে খুযায়মা, মিশকাত হা/৯০৬, ৯০৮। ৫৩ -এর ন্যায় অর্থ কনিষ্ঠা, অনামিকা ও মধ্যমা অঙ্গুলী মুষ্টিবদ্ধ করা ও বৃদ্ধাঙ্গুলীকে তাদের সাথে মিলানো এবং শাহাদাত অঙ্গুলীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া।

একমাত্র শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর পূর্ব পর্যন্ত আঙ্গুল নাড়ানোর দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে । ( মুসলিম)

তাশাহুদ :শেষ বৈঠকে বসে তাশাহুদ পাঠ করতে হয়| প্রত্যেক বৈঠকে তাশাহুদ তথা ‘অত্তাহিয়াতু’ পাঠ করা ওয়াজিব| এটি পড়তে ভুলে গেলে সহু সিজদা দিতে হয়| (বুখারী, মুসলিম, নাসাই,আহমদ)তাশাহুদ চুপে চুপে পড়া সুন্নত| (আবু দাউদ) আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু, ওয়াত্‌ তাইয়িবাতু। আস্‌সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্‌সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু। (বুখারী, মিশকাত পৃঃ ৮৫)

দুরুদ: দুই, তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতের একদম শেষের বৈঠকে তাশাহুদের পর কিন্তু সালাম ফেরানোর আগে দুরুদ পাঠ করতে হয়| আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত পৃঃ ৮৬, হা/৯১৯)

দুআ মাসুরা:দুআ মাসুরা মানে হচ্ছে ‘হাদিস বর্ণিত দুআ|’ দুরুদ এর পর দুআ মাসুরা পড়তে হয়|

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন্ ‘আযা-বি জাহান্নামা ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ ‘আযা-বিল কাবরি, ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ ফিৎনাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-ল, ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন ফিৎনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামা-ত, আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উজুবিকা মিনাল মা’ছামী ওয়াল মাগরাম |” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)

আরেকটি দুআ মাসুরা,

আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি যুলমান কাছিরা, ওয়ালা ইয়াগ ফিরূজ যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম | (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত পৃঃ ৮৭ হা/৯৩৯)তাশাহ্হুদ ও সালামের মধ্যেকার দো‘আ সমূহের শেষে রাসূল (সাঃ) নিম্নের দো‘আ পড়তেন,

আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখখারতু, অমা আসরারতু অমা আ‘লানতু, অমা আসরাফতু, অমা আনতা আ‘লামু বিহী মিন্নী; আনতাল মুক্বাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা’ ,মুসলিম, মিশকাত হা/৮১৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘তাকবীরের পরে কি পড়তে হয়’ অনুচ্ছেদ-১১।

অন্যান্য দুআ :‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনান্না-র’ । (আবুদাঊদ হা/৭৯৩, ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, অনুচ্ছেদ-১২৮; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৮৬৫।)আল্লা-হুম্মা রববানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আযা-বান্না-র’  অথবা আল্লা-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া . বুখারী হা/৪৫২২, ৬৩৮৯; বাক্বারাহ ২/২০১; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৪৮৭ ‘দো‘আসমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯।

২০]সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতে হবে। সালাম না ফিরিয়ে সালাত থেকে উঠে গেলে সালাত বাতিল হবে । ( আবু দাউদ, তিরমিজি, হাকেম)

প্রথমে ডানে ও পরে বামে সালাম তথা ‘আস্সালামি আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে সালাত শেষ করতে হয়| আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৯৫০, ‘তাশাহহুদে দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-১৭।

২১]তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতে দ্বিতীয় রাকাত এ মধ্যবর্তী বৈঠকে শুধু তাশাহুদ পড়ে ”আল্লাহু আকবার” বলে উঠতে হবে। এবং রফল ইয়াদায়ন করতে হবে তারপর পূর্বের ন্যায় বুকে হাত বেধে সুরা ফাতেহা থেকে শুরু করতে হবে । (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)

তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে ইচ্ছা করলে সুরা ফাতেহার পর অন্য সুরা মেলানো জায়েজ ( মুসলিম, আহমাদ) , অথবা শুধু সুরা ফাতেহা পড়লেও চলে অন্য সুরা না মেলালেও চলবে। ( বুখারী, মুসলিম)

মধ্যবর্তী বৈঠকে ”তাশাহুদ” পড়া ওয়াজিব। পড়তে ভুলে গেলে সিজদা সাহু দিতে হবে । ( বুখারী মুসলিম)

২২] অবশিষ্টি সালাত উপরের নিয়মেই আদায় করতে হবে ।

২৩] সালাম ফেরানোর পর হাদিস বর্ণিত কিছু দুআ ও জিকির রয়েছে সেগুলো পাঠ করা সুন্নত ।‘আস্তাগ ফিরুল্লাহ, আস্তাগ ফিরুল্লাহ, আস্তাগ ফিরুল্লাহ’ অতঃপর ,‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালা-লী ওয়াল ইকরাম’ (মুসলিম, মিশকাত); সালাম ফেরানোর পর কমপক্ষে এতটুকু করা হচ্ছে সুন্নত| কমপক্ষে এই সুন্নত করে তারপর সালাতের স্থান থেকে প্রয়োজনে নড়া উচিত|কিন্তু আমাদের সমাজে প্রচলিত সালাম শেষে সম্মিলিত মুনাজাত বিদাত যা সালাতকে বাতিল করে । ( বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)

অতএব কষ্ট করে আদায় কৃত সালাতকে সালাম শেষে সকলে সম্মিলিত মুনাজাত দিয়ে বাতিল করবেন না ।

সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিসের ভিত্তিতে সালাতের পদ্ধতি হলো উপরে বর্ণিত পদ্ধতি ।

আমাদের সমাজে দেখা যায় ভিন্নতা । এ সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা :-

১] জায়নামাজের দুআ বলে কিছুই নাই । এটা বানোয়াট যা বিদাত। এটা পড়লে নামাজ বাতিল হবে । ( বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাঝাহ)

২ ] নিয়ত উচ্চারণ ”নাউ আই তু আন” করে পড়া এটা বানোয়াট যা বিদাত। এটা পড়লে নামাজ বাতিল হবে । ( বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাঝাহ)

৩] নাভীর নিচে হাত বাধার হাদিস সকল মুহাদ্দিস তথা হাদিস গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের নিকটেই কিছু ”দুর্বল” এবং বাকি সব ”জাল”, যেহেতু বুকের উপর হাত বাধার সহিহ হাদিস বিদ্যমান সেহেতু সহিহ বাদ দিয়ে দুর্বল নিয়ে পরে থাকা বোকামি ব্যতীত কিছুই নয় । সহির উপর আমল করলে যেই সয়াব দুর্বলের উপর আমলে সেই সওয়াব কি পাওয়া সম্ভব? ইচ্ছাকৃত ত্যাড়ামী সালাত কে বাতিল করতে পারে। ( বুখারী , মুসলিম, ইবনে মাজাহ)

৪]সুরা ফাতেহা পড়তেই হবে, না পড়লে সালাত হবে না এটাই সহিহ ও শুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত । হুজুরের কথার উপরে রাসুল (সাঃ) এর কথাকে প্রাধান্য দিতেই হবে ।৫] আমিন জোরে বলাটাই সুন্নত। সকল সহিহ হাদিস জোরে বলার পক্ষেই । মনে মনে বলার হাদিস বাতিল । সহিহ থাকার পরেও সহিহ বাদ দিয়ে বাতিলের পিছে ছুটলে কিভাবে সালাত গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

৬]রফল ইয়াদায়ন করার পক্ষেই বেশি ও শক্তিশালী হাদিস । এটা করলে সওয়াব বেশি পাবেন আর না করলে সওয়াব কম পাবেন । এটা নিয়ে বিতর্ক কেবল বিদাতিরা করে থাকে ।

৭]আগে হাত রাখেন হাটু রাখেন যেটা ইচ্ছা রাখেন । সমস্যা নাই। এটা নিয়ে বিতর্ক কেবল বিদাতিরা করে থাকে ।

৮]সালাম ফেরানোর পর পর মুনাজাত ইবাদত মনে করে ধরেন আর না মনে করে ধরেন এটা বিদাত । সালাম ফেরানোর পর দুআ ও জিকির আছে সেগুলো পাঠ করা সুন্নত আর ওগুলো বাদ দিয়ে মুনাজাত ধরা বিদাত যা সালাতকে বাতিল করে দিবে ।

৯] অনেক বড় আলেম, কোটি কোটি মুসলিম কি ভুল করছে তাহলে – এই কথা কখনই দলিল বা যুক্তি হতে পারে না ।কারণকাফেরদের তুলনায় মুসলিমরা নগন্য । বিলিয়ন বিলিয়ন কাফের কি ইসলাম না মেনে ভুল করছে – এই কথা কি বলা যাবে?

অতএব এত এত বড় বড় আলেম বা কোটি কোটি মুসলিম যে ভুল করছে তা তো বুখারী মুসলিম আর মক্কা মদিনার বিখ্যাত বিখ্যাত স্কলারদের লেখা পড়লেই বুঝা যাচ্ছে । কোটি কোটি শিয়া। আপনি বললেই কি চলবে যে এত কোটি কোটি শিয়া কি না জেনে ভুল করছে? অথচ শিয়ারা কাফের, কারণ এরা রাসুল (সাঃ) শেষ নবী হিসেবে মানতে অস্বীকার করে ! আর এদের কথিত ইমাম দের নবী রাসুল থেকেও বেশি মর্যাদা দেয়। প্রধান দুই সাহাবীকে এরা কাফের বলে ! যার কারণে এই শিয়ারা নিজেরাই কাফের। হোক তারা সংখ্যায় কোটি কোটি বিলিয়ন বিলিয়ন ।

১০] রাসুল (সাঃ) কুরআন ও হাদিস আক্রে ধরতে বলেছেন। কোনো ব্যক্তিকে ধরে রাখতে বলেন নি । এই জন্যই প্রত্যেক ইমাম কড়া নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন হাদিস সহিহ হলে তাদের কথা ফেলে দিয়ে ওই সহিহ হাদিসকে মানতে হবে ।

ইমাম আবু হানিফা (র) এর নামে ব্যপক মিথ্যা কথা সমাজে ছড়িয়ে আছে যা আদৌ ইমাম আবু হানিফা (র) বলেছেন এর প্রমান নেই। অতএব ইমাম মানেনা এমনটা বলার সুযোগ নাই। কারণ ইমাম স্পষ্টই বলে গিয়েছেন বিশুদ্ধ হাদিস পেলে তাঁর কথা ফেলে দিয়ে হাদিস অনুযায়ী আমল করতে । ইমাম আল্লাহর কাছে বেঁচে যাবেন ইনশা আল্লাহ। কিন্তু আপনি অন্ধ ভক্তির কারণে ধরা খেয়ে যাবেনই যাবেন । কারণ ইমাম তো সহিহ হাদিস মানতে আর তার হাদিস বিরোধী কথা ছেড়ে দিতেই বলে গেছেন। এখন আপনি ইমামের কথা আংশিক মানলেন আর আংশিক ছেড়ে দিয়ে ইমামের উপর দশ দেয়ার কোনই সুযোগ পাচ্ছেন না । অতএব বুঝতে হবে ।

১১] কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ যথাক্রমে বুখারী > তারপর মুসলিম । এর পর আবু দুউদ, তিরমিজি, নাসায়ী। এবং তারপরে বাকিগুলো। বুখারী মুসলিম ব্যতীত বাকিগুলোতে জাল ও জিফ হাদিস রয়েছে যা হাদিস বিশেষজ্ঞগণ যাচাই বাছাই করছেন । শুধুমাত্র যে শায়খ আলবানীই একমাত্র জাল হাদিস আলাদা করেছেন না নয়। বরং উনার পূর্বেও বহু হাদিস বিশারদ গণ জাল জইফ হাদিস আলাদা করে বহু কিতাব লিখে গিয়েছেন। বিদাতিরা এ সম্পর্কে ব্যপক মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। মক্কা মদিনার লাইব্রেরিতে শত শত বছর পূর্বে লেখা কিতাব রয়েছে । শায়খ আলবানী সেগুলো স্টাডি করে গবেষণা করে একত্রিত করেছেন মাত্র । বিদাতিদের দৌড় মক্কা মদিনা পর্যন্ত পৌছায় না ।

আমাদেরকে মহান আল্লাহ সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন। কারো চোখে কোনো ভুল ধরা পড়লে দয়া করে কমেন্ট এ লিখে দিন । সংশোধন করা হবে ইনশা আল্লাহ।

Share Now

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *