হাদিসের গল্পঃ নামায পাঁচ ওয়াক্ত ফরয কিভাবে করা হল ?

প্রশ্নোত্তর শিক্ষা হাদিসের গল্প

নামায পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ।

সহি বুখারী  হাদীস—২৭৫২ ঃ হযরত মালেক ইবনে সা’সা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমান, আমি কাবা ঘরের নিকট তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম। এ সময় দুই ব্যক্তির এক ব্যক্তি আমার কাছে স্বর্ণের একটি তশতরী নিয়ে এল, যা হেকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। তারপর আমার বুক থেকে পেটের নীচ পর্যন্ত বিদীর্ণ করে যমযমের পানি দিয়ে ধােয়া হয়। তারপর তা হেকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ করা হয়। এরপর আমার নিকট সাদা চতুষ্পদ জন্তু (বােরাক) আনা হয়, যা খচ্চর থেকে ছােট আর গাধা থেকে বড়। তাতে আরােহণ করে আমি জিবরাঈল (আ.) সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, কে? উত্তরে বলা হল, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? উত্তর দেয়া হল, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি আপনাকে পাঠানাে হয়েছে? তিনি বললেন,
হাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি আদম (আ.)-এর কাছে গেলাম, তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে পুত্র ও নবী, তােমাকে ধন্যবাদ?

তারপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে গেলাম। জিজ্ঞেস করা হল, কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সাথে কে?
তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি আপনাকে পাঠানাে হয়েছে? বললেন, হাঁ। বলা হল, তাঁকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়া (আ.)-এর নিকট গেলাম। তারা বললেন, হে ভাই ও নবী, আপনাকে ধন্যবাদ।

আমরা তৃতীয় আসমানে পৌছলে জিজ্ঞেস করা হল, কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সাথে কে? বলা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আবার জিজ্ঞেস করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠানাে হয়েছে? তিনি বললেন, হাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম।

তারপর আমি ইউসুফ (আ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে ভাই ও নবী, আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌছলে প্রশ্ন করা হল, কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সাথে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জিজ্ঞেস করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠানাে হয়েছে? উত্তরে বলা হল, হাঁ। বলা হল, তাঁকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম।

অতঃপর আমি ইদরীস (আ.)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে ভাই ও নবী, আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর আমরা পঞ্চম আসমানে  পৌছলে জিজ্ঞেস করা হল, কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সাথে কে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। প্রশ্ন করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠানাে হয়েছে? বলা হল হাঁ। বললেন, তাকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমরা হারুন (আঃ)-এর কাছে গেলে। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে ভাই ও নবী, আপনাকে ধন্যবাদ।

তারপর আমরা ষষ্ঠ আস পৌছলে জিজ্ঞেস করা হল, কে? বলা হল, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সাথে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি আপনাকে পাঠানাে হয়েছে?  বললেন, হাঁ। বলা হল, তাকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম।

অতঃপর আমি মূসা (আ)-এর কাছে গিন্য। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে ভাই ও নবী, আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর আমি যখন তাঁর কাছ দিয়ে। অতিক্রম করলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, হে বর এ ব্যক্তি আমার পরে প্রেরিত হয়েছে, অথচ তার উম্মত আমার উম্মতের চেয়ে অধিক পরিমাণে জানাতে যাবে।

তারপর আমরা সপ্তম আসমানে পৌছলে প্রশ্ন করা হল, কে? বলা হল, আমি জিবরাঈল । জিজ্ঞেস করা হল আপনার সাথে কে? বলা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বলা হল, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বলা হল, হাঁ। ফেরেশতা বললেন, তাঁকে ধন্যবাদ, তার শুভাগমন কতই না উত্তম।

তারপর আমি ইবরাহীম (আ.)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে পুত্র ও নবী, আপনাকে ধন্যবাদ।
অতঃপর আমার সামনে বায়তুল মামুর প্রকাশ করা হয়। আমি জিবরাঈলকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এটি বায়তুল মামুর । এখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা নামায আদায় করেন। যারা এখান থেকে একবার বের হন তারা আর ফিরে আসেন না। এটাই তাদের শেষ প্রবেশ । তারপর আমাকে সেদরাতুল মােনতাহা । দেখানাে হয়। দেখলাম, এর ফল হাজারা নামক স্থানের মটকার ন্যায়, আর পাতা যেন হাতির কান। তার মূল দেশে চারটি ঝরণা প্রবাহিত রয়েছে, দুটি অভ্যন্তরে আর দুটি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, অভ্যন্তরের দু’টি জান্নাতে অবস্থিত, আর বাইরের দু’টির একটি ইরাকের ফোরাত আর অপরটি মিসরের নীলনদ। অতঃপর আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসী। (আ.)-এর কাছে ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কি করে এলেন? আমি বললাম, আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করা হয়েছে।

তিনি বললেন, মানুষ সম্পর্কে আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বনী ইসরাঈলের।
সংশােধনে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। আপনার উম্মত এত নামায আদায়ে সমর্থ হবে না। অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং কমানাের আবেদন করুন। আমি ফিরে গিয়ে আবেদন করলে আল্লাহ তাআলা নামায চল্লিশ ওয়াক্ত করে দেন। পুনরায় অনুরূপ ঘটলাে নামায ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেয়া হয়। পুনরায় অনুরূপ ঘটলে আর তাআলা নামায বিশ ওয়াক্ত করে দেন। আবার অনুরূপ হলে তিনি নামায দশ ওয়াক্ত করে দেন।

অতঃপর মূসা (আ)-এর কাছে-এলে তিনি পূর্বের ন্যায় বলেন। এবার ফিরে গেলে আল্লাহ নামায পাচ ওয়াক্ত ফর। দেন। আমি মূসার নিকট এলে তিনি বললেন, কি করে এলেন? আমি বললাম, আল্লাহ পাচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিয়েছেন। এবারও তিনি পূর্বের ন্যায় বললে বললাম, আমি তা মেনে নিয়েছি।

তখন আওয়াজ এল, আমি ফরয জারি করে দিয়েছি আর আমার বান্দাদের জন্য হালকা করে দিয়েছি। আমি প্রতিটি পুণ্যের জন্য দশ গুণ সওয়াব দেব।

Share Now

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *